ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শাহবাগ জনপদ উত্তাল হয়ে উঠেছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ছাত্র–জনতা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে জমায়েত হন এবং বেলা ২টা থেকে দিবসব্যাপী ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি পালন করেন। অবরোধের ফলে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়কে ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করে স্লোগান ও বিক্ষোভ মিছিল চালিয়ে যান। আন্দোলনের একপর্যায়ে রাতে ইনকিলাব মঞ্চ এক বিবৃতি দিয়ে চারদফা দাবি উত্থাপন করে।
হত্যার বিচার : হাদি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, সহায়তা এবং খুনিদের পালাতে সহযোগিতাকারীদেরও চিহ্নিত করে আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
ওয়ার্ক পারমিট বাতিল: বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট (কর্ম–অনুমতি) অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
আন্তর্জাতিক আদালত: যদি ভারত আশ্রয় নেওয়া খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
ফ্যাসিস্ট দোসর চিহ্নিতকরণ: সিভিল ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় ‘ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “হাদি হত্যার বিচার কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়; এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথের সংগ্রাম চলবে।” তিনি জানান, বিভাগের অন্যান্য জেলা ও মহানগরেও একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়েছে— যা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তৈরি হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :